তখন আদিত্য ক্লাসস নাইনে।যেমন ছিল দুস্টু,চঞ্চল আর ছিল মেধাবী।স্কুলের প্রায় সবাই ওকে জানে।কারন সবকিছুতেই ছিল তার অংশগ্রহন।তবে মেয়েদের প্রতি তার কোনো ইন্টারেস্ট ছিলনা।প্রতিবারই ওর রোল হতো ০১।আর তা দেখে হিংসা করতো প্রতিবার রোল ০২ হওয়া স্বপ্না নামক মেয়েটি।কিন্তু তা নিয়ে আদির কোনে মাথা ব্যথা ছিলনা। কিছুদিন ধরে আদির একটা জিনিস-ই চোঁখে পড়ছে আর তা হলো ওর ক্লাসের রোল ০৩ নন্দীনি নামে একটা মেয়ে ওকে ফলো করে।(এটা স্বপ্না’র একটা চাল ছিল যা আদি জানেনা কারন নন্দীনি ছিল স্বপ্নার best friend তাই স্বপ্না যা বলে নন্দিনী তাই শোনে ।

আর সেজন্যই স্বপ্না নন্দিনীকে আদির সাথে প্রেম করতে বলে,যাতে করে দশম শ্রেণীতে শেষবারের মতো স্বপ্না ১ম হয়) ১ মাস ধরে নন্দিনী নামক মেয়েটার আদিকে ফলো করা একদম পাগল করে দিচ্ছে আদিকে।আদি অনেকবার নন্দিনীর মায়া থেকে বের হতে চেয়েছে,কিন্তু পারেনি নন্দিনীর ঠোঁটের নিচের তিলটার জন্য।তাই একদিন আদি নন্দিনীকে প্রপুজ করে বসে আর নন্দিনীও রাজি হয়ে যায়।শুরু হয় আদি আর নন্দিনীর রিলেশান।আদি একটু অন্য রকম স্মার্ট ছেলে ছিল তাই,সে ফোনে প্রেম করাটা একদম পছন্দ করতোনা।ওদের রিলেশানটা শুধু ক্লাসে টুকটাক চাহনি,টিফিনে একসাথে ফুসকা খাওয়া এর-ই মধ্য সীমাবদ্ধ ছিল।অনেক দিন অতিবাহিত হওয়ার পর exam চলে আসে।

আদির পড়ালেখার কথা তো এতদিন মনেই ছিলনা।যাই হোক exam শেষ হলো।রেজাল্টও বের হলো।স্বপ্না ২য় হয়েছে,নন্দিনী ১ম আর আদি ২৩ তম। আদির রেজাল্ট নিয়ে তেমন মাথাব্যথা নেই যদি না নন্দিনীর রেজাল্ট’টা ভালো আসতো।কারন নন্দিনীর সুখই আদির সুখ।এদিকে স্বপ্নাতো রাগে শেষ।স্বপ্না নন্দিনী সহ আরও কিছু ফ্রেন্ড যারা নন্দিনী আর আদির বাজির কথাটা জানতো,তাদেরকে একটা ফাকা জায়গায় নিয়ে যাই। স্বপ্ন:নন্দিনী??তুই কি করলি এটা???ছিহ ছিহ… নন্দিনী:বিশ্বাস কর..আমি জেনে বুঝে কিছুই করিনি.trust me please স্বপ্না:তুই একটা ছিট,মিথ্যাবাদী,স্বার্থপর..তোর সাথে আজ থেকে আমার কোনো রিলেশান নেই।। তখনি এখানে আদি আসে… আদি:কি হয়েছে এখানে??

স্বপ্না:আদি??তুমি কি জানো?নন্দিনী এতদিন তোমার সাথে ভালোবাসার অভিনয় করেছে??যাতেও ক্লাসে ফার্স্ট হতে পারে. আদির মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো এই কথা শুনে।। আদি:আমি বিশ্বাস করিনা।।নন্দিনী??তুমি কিছু বলো??? স্বপ্না:ও আর কি বলবে??? নন্দিনী:আদি??আমি তোমার সাথে ফান করার জন্য ভালোবেসেছিলাম কিন্তু আদি:ব্যাস,stop.. নন্দিনী:আমার পুরো কথা তো শোন??? আদি:তোর মতো মেয়ের কাছ থেকে আমি কিচ্ছু শুনতে চাইনা..I hate you..but তোকে আমি সথ্যিই ভালোবেসেছিলাম..যদিও ছোট,তবুও বলছি আমার মতো করে কেউ তোকে কোনোদিন ভালোবাসতে পারবেনা। রাগে কস্টে কথাগুলো বলে আদি চলে যাচ্ছিল। নন্দিনী:কিন্তু আদি,একটা সথ্যি হলো আমি তোমার সাথে ফান করলেও মনে মনে ঠিকই ভালোবাসতাম। আদি শুনেও আর দাড়ালো না।

পরদিন আদি এই স্কুল থেকে টিসি নিয়ে নন্দিনীর থেকে দূরে অনেক দূরে চলে যায়। কিন্তু,নন্দিনীও আদিকে সথ্যিই ভালোবেসেছিল।নন্দিনীও প্রতি রাতে আদির জন্য চোঁখের পানি ফেলে। যা আদির কাছে অজানা। । বাস্তবে ফিরে এলো আদি। নন্দিনীর ফটোটার দিকে তাকিয়ে.. আদি:আমি তোকে ভুলতে চাই??আমার জীবনটা তুই শেষ করে দিয়েছিস..না আমি তোকে ভালোবাসি।না না না আমি তোকে ভালোবাসি না।I hate u..o hate u nandini..I hate you.. ওদিকে নন্দিনীও আদির কথা ভেবে রাত জাগে। রাতের এই নিঝুম শহরে দুটি মানুষ খুব কাছাকাছি থাকলেও কেউ কাউকে চেনেনা।আর চিনলেও তাদের ইগোর কারনে ভালোবাসাটা প্রকাশ করবেনা।অথচ দুজনের জন্য দুজনের মনে বিশাল আকাশের মতো ভালোবাসা জমে আছে।

পরদিন সকালে…. আদি খুব ভোড়েই ঘুম থেকে উঠে পড়ে।আজও তার ব্যতিক্রম নয়।Exercise করে বাসায় এসে ফ্রেস হয়ে দেখে সবাই খাবার টেবিলে। আদিও বসে পড়ে।আদির মা আর ভাবি খাবার সার্ভ করছে। মা:দেখ আদি,আজ তোর ফেবারিট সব খাবার রান্না করেছি।কেমন হয়েছে??বলবি.. আদিত্য:হ্যা ভালো..(নন্দিনীর সাথে রিলেশান শেষ হওয়ার পর থেকে ফেবারিট খাবার রান্না করলে আদি কিছুই বলতোনা,অথচ আগে তার ফেবারিট খাবারের গন্ধ শুনলে সাউন্ড বক্সে গান লাগিয়ে নাচতো আর মাকে জড়িয়ে,ধরে thanku দিতো) আদি কোনো বলছেনা দেখে বাকি সবাইও চুপ করে আছে। খাওয়া শেষে আদি চেয়ার থেকে উঠে দাড়িয়ে… আদি:ভাইয়া,অফিস যাওয়ার আগে আমাকে একবার ডেকে যাস। ভাইয়া:হুম… বাবা;কিন্তু আদি??

govt jobs circular priojob.com

সব সময় সকল চাকরির খবর পেতে অ্যাপস ডাউনলোড করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here