আকাশের অবস্থা একদমই ভালো না

0
33

আকাশের অবস্থা একদমই ভালো না। সকাল থেকেই মেঘ জমে আছে৷ দুপুরের দিকে হালকা বৃষ্টি হয়েছিলো। তবুও মেঘ কাটেনি, আরও জেঁকে বসেছে। টিউশনি করাতে এসেছিলাম, বৃষ্টির জন্যে আটকে গেছি। সাদিয়ার মা বললো, বাবা বিকালে একটু আয়োজন করব ; থেকে যাও। না করিনি, প্রথমত এই মহিলার কথা ফেলা প্রায় অসম্ভব। দ্বিতীয়ত, প্রচুর ক্ষুধা লেগেছে। কয়েকদিন ধরে মেসের মিল বন্ধ।

তাছাড়া পকেটের অবস্থাও ভালো না। এসময় একবেলা ফ্রিতে ভালো খাওয়া দাওয়া করায় দোষের কিছু দেখিনা। ছোট থেকে যেগুলো প্রিন্সিপাল শিখে আসছি সেগুলো ধীরে ধীরে মিশে যাচ্ছে৷ ‘ক্ষুধার চেয়ে আত্মসম্মান বড়’ ব্যাপারটা আমার কাছে সম্পুর্ণই উল্টে গিয়েছে৷ মাঝে মাঝে নিজের কাছে যে নিজেকে ছোট লাগেনা তা নয়, কিন্তু কিছু করার নেই। সময়ের সাথে নিজের পরিবর্তনও আবশ্যক।

আর এই সময় কেউ অত মর‍্যালের দামও দেয় না। সাদিয়া মেয়েটা বেশ মেধাবী। তাকে ক্লাস নাইন থেকে পড়িয়ে আসছি। আজ প্রায় তিনবছর হতে চললো । ছটফটে স্বভাবটা বয়সের সাথে কমে আসলেও, ফাকিঁবাজি ব্যাপারটা যায়নি। নিজের ভালো নিজে বোঝার ব্যাপারটুকু বোধহয় এখনো ওর মাথায় ঢুকেনি। এজন্যে

পড়ার টাইম পার হয়ে গেলেও টেবিলে বসিয়ে রেখেছি । একদিকে ত্রিকোণমিতির সাইন, কোসেক, কট যেমন চলছে সাদিয়ার মুখও চলছে অনবরত। – আচ্ছা শুভ্র ভাই! – হুম। – কয়েকদিন ধরে আপনার মনে হচ্ছে না যে কিছু একটা স্বাভাবিক না! – এরকম মনে হবে কেন? – জানি না, আমার কেন জানি মনে হচ্ছে, একটা ফালতু ব্যাপার ঘটতে চলেছে।

আমি ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকালাম। সাধারণত এভাবে তাকালে ও কিছুটা চুপসে যায়। আজ প্রায় না দেখার ভান করেই কথা চালিয়ে যেতে লাগলো । – আমার ইনটিউশন আছে, ভালো বা খারাপ কিছু হবার আগে ভাগে বুঝতে পারি যে কিছু হতে চলেছে। – ওহ আচ্ছা। ভালোতো। – আপনি বিশ্বাস করলেন না তাইনা? – সত্যি বলবো না মিথ্যা? সাদিয়া মুচকি হাসল। মুখ টিপে বলল, মিথ্যাই বলেন!

আমি কলমের খাপ বন্ধ করতে করতে বললাম, বিশ্বাস হয়নি। – আর সত্যটা কী? – একই, সত্য মিথ্যা যেটাই হোক না কেন, আমি কোন বুজরুকিতেই বিশ্বাস রাখি না। – সে হিসেবে ধর্মের একটা বড় অংশই তো বুজরুকি! সত্য মিথ্যা ভুলে আপনাকে সেটা না চাইলেও বিশ্বাস করতে হবে, নাকী আপনি ধর্মেও বিশ্বাস করেন না? কিছু বললাম না।

কিছু প্রশ্নের জবাব দিতে ইচ্ছে হয়না। কিছুটা রাগের ভঙ্গিতেই ওকে ইশারা করলাম পড়া শুরু করতে। সুযোগ থাকলে সিগারেট ধরাতাম। নিকোটিন তৃষ্ণায় গলা শুকিয়ে আসছে। ফোন বেজে উঠল। ইমনের ফোন। দুই বছরের জুনিয়ার। অনেক ভদ্র ছেলে, প্রচন্ড বিনয়ী যেটা আজকাল খুব একটা দেখি না। ধরেই বললাম, – কি অবস্থা হে? – স্লামাইকুম ভাই। – ওয়ালাইকুম আসসালাম, কি খবর? –

ভাই, আমি একটা সমস্যায় পড়েছি। খুব বড় সমস্যা। আমি বুঝতে পারছি না কী করব! ইমনের গলার টোন শুনে কিছুটা ভয় লাগলো। না জানি কোন বিপদে পড়েছে। জিজ্ঞেস করলাম, ফোনে বলা যাবে? – না ভাই, সম্ভব না। আমি মেসে আসি সন্ধ্যায় ? – আরে, আমারতো সমস্যা সন্ধ্যায় । একজনকে টিউশনি করাতে যাবো, ওর টেস্ট পরীক্ষা চলছে, না গেলে তো ভেজাল। – একটা কাজ করি, আমি রাতে আসি? – আচ্ছা ভাই। খুব দরকার ভাই, ভুলে যেয়ো না প্লিজ। –

আরে না ভুলব কেন? – আচ্ছা ভাই। – আচ্ছা দেখা হবে। ইমন ফোন রেখে দিলো। কি হয়েছে আন্দাজ করতে পারছি না। জামশেদের সাথে আবার ভেজাল লাগলো নাকী কে জানে! জামশেদ ছেলেটা বড্ড বিরক্ত করে সবাইকে। ওর কিছু একটা ব্যবস্থা করতে হবে। – কিছু হয়েছে ভাই? সাদিয়া আগ্রহের সাথে জিজ্ঞেস করলো। – নাহ, কি হবে? সাদিয়া কিছু বললো না। মুচকি হাসলো। হাসির কারণ উপলব্ধি করতে পারলাম না, সত্যি বলতে ইচ্ছাও নেই, মেয়েটার কাজকর্ম এমনিতেই অদ্ভুত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here