দোকানপাট বন্ধ দেখে দ্বিগুণ টাকা দিয়ে

0
30

দোকানপাট বন্ধ দেখে দ্বিগুণ টাকা দিয়ে, আমার এক ফুফা মিরপুর ১০ নম্বর থেকে এক জিলাপি কারিগরকে এনে বাসায় রেখে দিয়েছে ১ মাসের জন্য বেচারা কারিগর প্রতিদিন বিকালে ইফতারের আগে মুখ চোখা করে দেড়শ গ্রাম জিলাপি বানায়… তারপর তার ডিউটি শেষ পরের দিন আবার দেড়শ গ্রাম ব্যাপারটা স্বচক্ষে দেখার জন্য তৃতীয় রোযায় একটা উসিলা নিয়ে ফুফার বাসায় পিপিই পরে হাজির হলাম ।

আলাপ শেষে চলে আসার আগে বললাম ‘কৈ তোমাদের কারিগর? একটা ইন্টার্ভিউ নিয়ে যাই তার’ আমি আর কারিগর নিচের দারোয়ানের রুমে বসে আছি কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে সে বলে উঠল “ভাইজান, জিলাপি বানায়ে জুত পাইতাসি না” ‘কেন?’ “আমারে এখান থেকে নিয়ে যায়ে উদ্ধার করেন” ‘কেন?’ “জিলাপি ভাইজান বানাতে হয় কেজির পর কেজি… মণের পর মণ… জিলাপি বানানো মনে করেন একটা নেশা … ৪০/৫০।

কেজি বানানোর পর নেশাটা উঠে। বডি অটোম্যাটিক জিলাপি মুডে চলে আসে। কিন্তু আপনার ফুফা তো দেড়শ গ্রাম বানায়ে খালাস… নেশা উঠার আগেই পিনিক শেষ” ‘চাকরি ছেড়ে দাও… তোমাকে বাসায় বসে দেড়শ গ্রাম জিলাপি বানাতে কে বলেছে?’ “তাও কথা” ‘ব্যাগ গুছাও, আমার গাড়ির পিছে উঠে মাথা নিচু করে বসে থাকো… তোমাকে আমি নিয়ে হিন্দি সিনেমার মতো ভাগি’ “।

আপনে আবার পুলিশে দিবেন না তো?” ‘আরে নাহ… আমি উপরে যাচ্ছি ফুফাকে ইন্টার্ভিউ শেষ বলতে আর বুঝাতে যে আমার সাথে তোমার সাক্ষাত শেষ… তাহলে আর আমাকে সন্দেহ করবে না…তুমি এই চান্সে আমার গাড়ির পিছে উঠে মাথা নিচু করে চুপ করে বসে থাকো… আমি নিচে নেমেই টান মেরে বের হয়ে যাব… তোমার মুক্তি আজকে’ ১০ মিনিট পর নিচে নেমে দেখি কারিগর তার বিশাল কালো ডেকচী, গ্যাস বার্নার নিয়ে।

আমার গাড়ির পিছের সিটে বসে আছে। সে মাথা নিচু করে আছে কিন্তু বিশাল ডেকচী আর গ্যাস বার্নার দেখা যাচ্ছে আমি গাড়িতে উঁকি দিয়ে বললাম, ‘তোমার ঘুমানোর খাটটা নিবা না? চলো ওটা দুইজনে ধরে গাড়ির ছাদে উঠাই’ সে আমার রসিকতা বুঝলো না… সে ফিসফিস করে বলল, “ঐ খাট আমার না… দারোয়ানের… আপনি সময় অপচয় না করে টান মারেন”।

আমি টান মেরে বাসা থেকে বের হলাম বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা ফুফা দেখলেন আমি কমলা পিপিই পরে তার সাধের জিলাপির ডেকচী আর গ্যাস বার্নার গাড়িতে নিয়ে চলে যাচ্ছি … পরের কাহিনী সিম্পল এই কারিগর এখন ঢাকার ‘ম’ আদ্যক্ষরের এক এলাকায় “জিল্লুর জিলাপি” নামে একটা জিলাপির দোকান দিয়েছে এই কোয়ারেন্টিনের মাঝেও তার।

এই গলির নতুন দোকান প্রতিদিন ৭০০ কেজির মতো জিলাপি বিক্রি করে আজ বিকালে তার দোকানে উঁকি মেরে দেখি সে চোখ বুঝে জিলাপি বানাচ্ছে… তার চেহারার মাঝে একটা শান্তি শান্তি ভাব সে চোখ খোলার আগেই আমি চলে এসেছি আজকের লেখাটা জিলাপি নিয়েও না… বা, বাঙ্গালীর জিলাপি প্রীতি নিয়েও না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here