রাফসান ও চায়নি এ জীবনে কাউকে

0
31

রাফসান ও চায়নি এ জীবনে কাউকে, আর বেশি কষ্ট দিতে। তাই ওর সাথে সমস্ত সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে চলে যাচ্ছে অচেনা শহরে। হোস্টেলে আর কতদিন?। মাঝে মাঝে রক্ত ঝরে নাক থেকে। দু’একজন বন্ধু ছাড়া কেউ ই জানেনা তার এ রোগ সম্পর্কে। মা-বাবাও না। তাদের জানালে হয়তো যতদিন বেঁচে থাকবে ততোদিন ই কষ্ট পাবে। আমি চাইনা যতদিন বেঁচে আছি ততোদিন মা-বাবা কষ্ট পাক আমার এ রোগের কথা জেনে।

নিরালয়ে কাঁদে রাফসান। আজ চলে যাবে রাফসান ওর মায়ের কাছে, মুখ লুকাবে তার আঁচলে। হয়তো একটু শান্তির খোঁজে, যদি এত পাপকর্মের পরেও একটু শান্তি মিলে সেই আশায়। রাফসান কি জানতো এখানে আসলে ওর মনের কোণে বেঁচে থাকার ইচ্ছেটা আরও গভীর হবে, মরার ভয়কে আরও বেশি ভয়ানকভাবে তাকে কষ্ট দিবে? হয়তো বা না, যেটা বাস্তব সেটা ও সহজেই মেনে নিতে পারে।

সকালের গাড়িতে করে বাসায় চলে যায় রাফসান, দু’ঘন্টার পথ মাত্র। বাসায় এসেই মা’কে সর্বপ্রথম জড়িয়ে ধরে। অতৃপ্তির শান্তিরা মনে জড় হয়। কান্না করে দেয় সে। মা ও কাঁদে, কতদিন পরে ছেলের মুখ দেখে। রাতের খাবারের পর যখন রাফসান ঘুমাতে যাবে, তখন মা’কে ডাকে.. “আম্মু ও আম্মু” পাশের রুম থেকে মা ডাক দিয়ে বলে.. “কিরে কি হইছে?” “আমার রুমে আসবে একটু?”

মা-ও কিছু বললো না, রাফসানের রুমে এসে দাঁড়ায়, রাফসান বলে. “এখানে বসো না আম্মু” “বসলাম! এখন কি বলবি?” রাফসান আস্তে করে ওর মায়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়ে, আস্তে আস্তে বলে. “মাগো তোমার কোলে আজকে রাতটা একটু ঘুমাতে দিবে? বড়ই সখ জাগে শেষবারের মতো তোমার কোলে মাথা রেখে ঘুমাতে, আর কখনো সুযোগ হয় কি না তাও জানিনা। বড় হয়ে গেছি তো।

দুদিন বাদে হয়তো বিয়ে করিয়ে দিবে তখন তো আর তোমার বৌমার কোল ছাড়া ঘুমোতে পারবো না।” বুকের মাঝে আটকে ছিলো কথাগুলো, অনিচ্ছা সত্বেও বিয়ের কথা বলে মায়ের মুখে একটু হলেও হাঁসির খোঁড়াক জুগিয়েছে, মা-ও কিছু বলেনি রাফসানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে আর ঘুম পাড়ানোর গান গাইছে…।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here